জাতীয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জাতীয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২০

এক দিনে করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু ও শনাক্ত

এক দিনে করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু ও শনাক্ত

এক দিনে করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু ও শনাক্ত



দেশে এক দিনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সর্বোচ্চসংখ্যক শনাক্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এই প্রথমবারের মতো এক দিনে শনাক্তের সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ১৭১ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৪৫ জনের। এতে দেশে ৭০ হাজার ছাড়াল শনাক্তের সংখ্যা।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে আজ মঙ্গলবার এমন তথ্য জানানো হয়। ব্রিফিংয়ে বলা হয়, সব মিলে দেশে করোনা শনাক্ত হয়েছেন ৭১ হাজার ৬৭৫ জনের। আর মৃত্যু হয়েছে ৯৭৫ জনের।



গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৭৭৭ জন। এ নিয়ে সর্বমোট ১৫ হাজার ৩৩৭ জন সুস্থ হয়েছেন। গতকাল সোমবার দেশে করোনায় সংক্রমিত ২ হাজার ৭৩৫ জন শনাক্ত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। মারা গিয়েছিলেন ৪২ জন।



ব্রিফিংয়ের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪ হাজার ৬৬৪ জনের জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ১২ হাজার ৯৪৪ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৪ লাখ ২৫ হাজার ৯৯৫টি নমুনা।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনায় সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্তের ঘোষণা আসে। আর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

করোনার ঝুঁকি এড়াতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে সবাইকে অনুরোধ করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা। অনলাইন ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, কোভিড-১৯ চিকিৎসায় অক্সিজেন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই বাসায় অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে রাখছেন, যা অনভিপ্রেত। অক্সিজেন থেরাপি কারিগরি বিষয়, নিজে নিজে দিতে গেলে অনেক ক্ষেত্রে এটি ক্ষতিকর হতে পারে। তাই অযথা এটি কিনে মজুত করবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অক্সিজেন দেওয়া উচিত নয়।

রবিবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

বড় ধরনের দরপতন, বেড়েছে লেনদেন...দেখতে আসুন আপডেট-খবর

বড় ধরনের দরপতন, বেড়েছে লেনদেন...দেখতে আসুন আপডেট-খবর

বড় ধরনের দরপতনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন। তবে গত কার্যদিবসের (বৃহস্পতিবার) তুলনায় বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। আজ রোববার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইএক্স কমেছে ৪৮ পয়েন্ট, অবস্থান করছে ৫ হাজার ৭৬৩ পয়েন্টে। গত কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৪০ কোটি টাকা।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, আজ মোট লেনদেন হয়েছে ৮১২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। হাতবদল হওয়া শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৭২টির, কমেছে ২৪৭টির আর দর অপরিবর্তিত আছে ২৯টির। গত কার্যদিবসে লেনদেন শেষে ডিএসইএক্স সূচক বাড়ে ২৫ পয়েন্ট। মোট লেনদেন হয় ৭৭২ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।
আজ লেনদেনের শীর্ষে যে ১০ কোম্পানি রয়েছে, সেগুলো হলো ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, মুন্নু সিরামিকস, ফরচুন, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার, জেনেক্স ইনফোস, মুন্নু স্টাফলার, পাওয়ার গ্রিড, সিঙ্গারবিডি ও সোনার বাংলা ইনস্যুরেন্স।

দর বাড়ার শীর্ষে যে ১০ কোম্পানি, সেগুলো হলো ফরচুন, জেএমআই সিরিঞ্জেস, স্টাইল ক্র্যাফট, মারিকো, এরামিট, রেনেটা, মুন্নু সিরামিকস, আইসিবিএএমসি সেকেন্ড মিউচুয়াল ফান্ড, ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স ও ফাইন ফুডস।
দর কমার শীর্ষে যে ১০ কোম্পানি, সেগুলো হলো বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, সেন্ট্রাল ইনস্যুরেন্স, ফেডারেল ইনস্যুরেন্স, গ্লোবাল ইনস্যুরেন্স, অগ্রণী ইনস্যুরেন্স, কন্টিনেন্টাল ইনস্যুরেন্স, জেনেক্স ইনফোস, ইস্টল্যান্ড, জনতা ইনস্যুরেন্স ও কর্ণফুলী।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৮৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১৭ হাজার ৫৯৬ পয়েন্টে। লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৬৬টির, কমেছে ১৮৮টির, অপরিবর্তিত রয়েছে ২৩টির।
নালিশ আর মামলা বিএনপির শেষ ভরসা: কাদের.....দেখতে আসুন আপডেট-খবর

নালিশ আর মামলা বিএনপির শেষ ভরসা: কাদের.....দেখতে আসুন আপডেট-খবর


ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবিওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবিআওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির আন্দোলন করার মতো সামর্থ্য নেই, তাই নালিশ আর মামলাই তাদের শেষ ভরসা।
আজ রোববার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ কথা বলেন কাদের। তিনি উপজেলা নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণার পর এ মন্তব্য করেন। 

ওবায়দুল কাদের বলেন, যেকোনো নির্বাচনের ফল নিয়ে যে কারোরই মামলা দায়েরের অধিকার রয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের ফল নিয়ে জেলা পর্যায়ে বিএনপির মামলা করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাওয়া এক প্রার্থীর বিষয়ে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখব। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পৌরসভার মেয়র বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না? এ বিষয়ে কাদেরের কাছে জানতে চাওয়া হয়। এর উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের আইনের ব্যত্যয় যেন না হয়, সে জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। সে জন্যই আমরা জাতীয় নির্বাচনে উপজেলা চেয়ারম্যান এবং মেয়রদের দলীয় মনোনয়ন দিইনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও আমরা মেয়র ও ইউনিয়ন পরিষদের কোনো চেয়ারম্যানকে মনোনয়ন দিইনি। তারপরও কোনো অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’
এ সময় সাংবাদিকের অপর এক প্রশ্নের সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, আমরা শতকরা ৩৩ ভাগ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আরপিওর ধারাটি পুরোপুরিভাবে পালন করার টার্গেট রয়েছে।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ২২ ফেব্রুয়ারি তৃতীয়, ২৩ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ এবং জুন মাসে পঞ্চম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
দুর্ঘটনায় ফেরদৌস ও পূর্ণিমা আহত.....দেখতে আসুন আপডেট-খবর

দুর্ঘটনায় ফেরদৌস ও পূর্ণিমা আহত.....দেখতে আসুন আপডেট-খবর


পূর্ণিমা ও ফেরদৌস
পূর্ণিমা ও ফেরদৌসচিত্রনায়ক ফেরদৌস আর চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। আজ রোববার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে নোয়াখালীর চরমণ্ডলে। সেখানে ‘গাঙচিল’ ছবির শুটিং করছেন তাঁরা। ছবিটির পরিচালক নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামূল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আজ সকালে মোটরসাইকেলের একটি দৃশ্যের শুটিং হচ্ছিল। গতকাল শনিবার এই দৃশ্যের শুটিং হয়েছে। কিছু কাজ বাকি ছিল। সেটাই আজ করা হয়। মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন পূর্ণিমা। পেছনে বসে ছিলেন ফেরদৌস। কিছু বুঝে ওঠার আগেই রাস্তায় স্লিপ কেটে তাঁদের মোটরসাইকেল উল্টে যায়। ফেরদৌস আর পূর্ণিমা ছিটকে গিয়ে রাস্তার পাশে পড়ে যান। দুজন যথেষ্ট ব্যথা পেয়েছেন। দুজনেরই শরীরের কিছু স্থানে কেটে গেছে। সেখান থেকে রক্ত ঝরেছে। তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’
আজ দুপুরে নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামূলের সঙ্গে যখন কথা হয়, তখন ফেরদৌস আর পূর্ণিমাকে বসুরহাট সেন্ট্রাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানালেন, ঘটনার পর ফেরদৌস আর পূর্ণিমাকে বিশ্রামে রাখা হয়। কিন্তু ব্যথা বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।
পূর্ণিমা ও ফেরদৌসএরপর কথা হয়েছে ফেরদৌসের সঙ্গেও। তিনি বলেন, ‘প্রচণ্ড ব্যথা পেয়েছি। পূর্ণিমাও। আমি ব্যথা পেয়েছি সোল্ডারে আর পূর্ণিমা পায়ে। দুজনেরই খুব ব্যথা হচ্ছে। পূর্ণিমার পা ফুলে গেছে। হাসপাতালে যাচ্ছি। দেখি ডাক্তার কী বলেন।’

৬ ফেব্রুয়ারি থেকে চরমণ্ডল আর চর এলাহিতে ‘গাঙচিল’ ছবির শুটিং করছেন ফেরদৌস আর পূর্ণিমা। গতকাল তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন আনিসুর রহমান মিলন। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের উপন্যাস ‘গাঙচিল’ নিয়ে ছবিটি তৈরি করছেন নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামূল।
 এসএসসির উত্তরপত্র খোয়া , কেন্দ্রসচিবসহ চার শিক্ষককে অব্যাহতি...দেখতে আসুন আপডেট-খবর

এসএসসির উত্তরপত্র খোয়া , কেন্দ্রসচিবসহ চার শিক্ষককে অব্যাহতি...দেখতে আসুন আপডেট-খবর

মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে গতকাল শনিবার এসএসসি পরীক্ষার গণিতের একটি উত্তরপত্র হারিয়ে যাওয়ায় কেন্দ্রসচিব, সহকারী কেন্দ্রসচিব, ওই কক্ষের দুই পরিদর্শককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গতকাল মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গনি স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাঁদের অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
অব্যাহতি প্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন আমঝুপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্রসচিব আহাম্মদ আলী, আমঝুপি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী কেন্দ্রসচিব সহিদুল ইসলাম, ১১৩ নম্বর কক্ষের পরিদর্শক মোমিনপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোছা. জান্নাতুল ও বলিয়ার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল বাসার।
অব্যাহতি পত্রে বলা হয়েছে, ০৯/০২/২০১৯ তারিখ চলমান এসএসসি পরীক্ষার গণিত পরীক্ষায় মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের আওতাধীন আমঝুপি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ভেন্যু কেন্দ্রের ১১৩ নম্বর কক্ষে ৪০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। পরীক্ষা শেষে অনেক খোঁজাখুঁজি করার পর ৩৯টি উত্তরপত্র পাওয়া গেছে। একটি উত্তরপত্র পাওয়া যায়নি। পাবলিক পরীক্ষার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় দায়িত্বে অবহেলার কারণে চলমান সব পরীক্ষা থেকে উক্ত চার শিক্ষককে অব্যাহতিসহ কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হয়েছে।

একই পত্রে মেহেরপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিনয় কুমার চাকীকে ওই কেন্দ্রের কেন্দ্রসচিব এবং বলিয়ারপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেমকে সহকারী কেন্দ্রসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সৌরবিদ্যুতের উদ্বৃত্ত জাতীয় গ্রিডে.....দেখতে আসুন আপডেট-খবর

সৌরবিদ্যুতের উদ্বৃত্ত জাতীয় গ্রিডে.....দেখতে আসুন আপডেট-খবর


প্রথম আলো ফাইল ছবি
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো সম্প্রতি প্রায় ৩৫টি গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ‘নেট মিটারিং গাইডলাইন ২০১৮’–এর আওতায় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ২০১৮ সালের জুলাই মাসে ওই গাইডলাইন জারি করেছিল। স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় প্রায় পাঁচ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎশক্তি নবায়নযোগ্য উৎস থেকে গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ–জাতীয় চুক্তি আরও অনেক হবে বলে আশা করা যায়। চুক্তির অধীনে যোগ্য গ্রাহক নিজ মালিকানার গৃহস্থালি, বাণিজ্যিক বা শিল্পকারখানার ছাদ বা উন্মুক্ত স্থানে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ প্যানেলে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ (গ্রাহক নিজে ব্যবহার করার পর বাড়তি বিদ্যুৎ) বিতরণ কোম্পানির কাছে (বিদ্যুৎ গ্রিডে) নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করবেন। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের সরবরাহকৃত নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের মূল্য পরিশোধ করতে বিতরণ কোম্পানি গ্রাহকের গ্রিড থেকে নেওয়া বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে মূল্য সমন্বয় করবে। ফলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি (যেমন সূর্যের আলো) উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে উৎসাহ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকাশিত গাইডলাইন অনুযায়ী, এ পদ্ধতি ব্যবহার করে গ্রাহক নিজের অনুমোদিত লোডের ৭০ শতাংশ পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবেন। নেট মিটারিং পদ্ধতির আওতায় প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ এসি আউটপুট তিন মেগাওয়াটে সীমিত রাখা হয়েছে (সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল থেকে ‘ডিসি’ বা ‘ডাইরেক্ট কারেন্ট’ উৎপাদিত হয়, যা গ্রিডে সরবরাহের আগে ইনভার্টারের মাধ্যমে এসি বিদ্যুতে রূপান্তর করা হয়)। গ্রাহকের আমদানিকৃত (গ্রিড থেকে নেওয়া) বিদ্যুৎশক্তি তার রপ্তানিকৃত (নবায়নযোগ্য জ্বালানি দিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুতের গ্রিডে সরবরাহকৃত অংশ) বিদ্যুৎশক্তি সমান হলে গ্রাহকপ্রতি বিলিং সময়কালে কেবল ডিমান্ড চার্জ ও অন্যান্য নির্ধারিত চার্জ (সাধারণ গ্রাহকের ওপর সচরাচর প্রযোজ্য) পরিশোধ করেন। কোনো বিলিং সময়কালে নেট মিটারিং পদ্ধতির আওতায় গ্রাহকের বিদ্যুৎ রপ্তানির পরিমাণ আমদানির চেয়ে বেশি হলে তা ক্রেডিট হিসেবে পরবর্তী বিলের সঙ্গে সমন্বয়ের ব্যবস্থা থাকে। নির্দিষ্ট মিটার স্থাপনের মাধ্যমে গ্রাহক কী পরিমাণ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন করছেন, গ্রিড থেকে কত বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন, কী পরিমাণ উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করছেন, তা নিয়মিত পরিবীক্ষণের ব্যবস্থা সিস্টেমে সংযুক্ত করা হয়। বাড়ি, বাণিজ্যিক স্থাপনা, শিল্পকারখানার ছাদ বা উন্মুক্ত স্থানে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করে নিজে ব্যবহার ও উদ্বৃত্ত অংশ গ্রিডে সরবরাহের ব্যবস্থা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দীর্ঘদিন বেশ চালু আছে। বিলম্বে হলেও আমাদের দেশে এর যাত্রা শুরু হলো।
২০২০ সালের মধ্যে মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস থেকে উৎপাদন ও সরবরাহ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার কাজ করছে। এখন পর্যন্ত গ্রিড বিদ্যুতের আওতার বাইরে প্রায় ২ হাজার ৮০০ মেগাওয়াটের ক্যাপটিভ বিদ্যুৎসহ মোট ২০ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎশক্তি উৎপাদনের সামর্থ্য তৈরি হয়েছে (ভারত থেকে আমদানি করা ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎসহ। দেশে গ্রিড সংযোগের বাইরে মোট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা এখন পর্যন্ত প্রায় ৩২৬ মেগাওয়াট।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সবচেয়ে বাস্তবানুগ উৎস সৌরশক্তি। আমাদের দেশে জমির স্বল্পতার কারণে বড় পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়া নিয়ন্ত্রিত রাখতে হচ্ছে (এক মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে তিন একরের বেশি বাধাহীন জায়গা দরকার হয়)। এ দেশে বায়ুশক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুকূল জায়গা খুবই কম। নতুন জলবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সুযোগও কার্যত অনুপস্থিত। ফলে বিদ্যমান প্রযুক্তির জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিদ্যুৎ আমদানির ওপর এ দেশের নির্ভরতা থাকছেই। এ কারণে বাসাবাড়ি, বাণিজ্যিক ভবন, শিল্পকারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেম বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয় বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
সৌরশক্তি ও অন্যান্য উৎস (কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থাপিত ক্ষমতা, বায়ুশক্তিচালিত বিদ্যুৎ স্থাপনাসহ) মিলিয়ে দেশে মোট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থাপিত ক্ষমতা এখন প্রায় ৫৫৯ মেগাওয়াট (৩ শতাংশের কম)। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর (জ্বালানি তেল, গ্যাস, কয়লা) নির্ভরতা ব্যাপক। সরকার সবার জন্য বিদ্যুৎ–সুবিধা নিশ্চিত করতে জ্বালানি বহুমুখী করার কৌশলকে গুরুত্ব দিচ্ছে। সে ধারাবাহিকতায় জীবাশ্ম জ্বালানির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন এখন পর্যন্ত বেশ ব্যয়বহুল। বিদ্যমান প্রযুক্তিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে সুলভ মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহে জার্মানির মতো (পৃথিবীর চতুর্থ বৃহৎ ও ইউরোপের বৃহত্তর অর্থনীতি) দেশও হিমশিম খাচ্ছে। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের বিদ্যুৎ ক্রয়ের সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা আছে। ফলে আমাদের জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা দ্রুত কাটছে না। সরকার গ্রাহকদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে এবং গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ কম ব্যবহার করতে উৎসাহিত করছে।
জার্মানির এখন প্রায় ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদন করার সামর্থ্য আছে। সম্প্রতি দেশটির এক কমিশন বলেছে, তাদের অন্তত ২০৩৮ সাল পর্যন্ত কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হবে। জার্মান অর্থনীতি ও তার বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা সামর্থ্যের সঙ্গে অধিক জ্বালানি ব্যবহারকারী শিল্প-বাণিজ্যের সম্পর্ক নিবিড়। দেশটি এখনো নিজেদের পারমাণবিক বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, উপরন্তু প্রতিবেশী ফ্রান্স থেকে পারমাণবিক বিদ্যুৎ এবং পোল্যান্ড ও হাঙ্গেরি থেকে কয়লা বিদ্যুৎ আমদানি করে। কয়লাসহ জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন কমালে জার্মানির শিল্প–বাণিজ্যের প্রতিযোগিতা সামর্থ্য হুমকির মুখে পড়বে বলে সে দেশের ব্যবসায়ী নেতারা আশঙ্কা করেন। আরও বেশি নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহার করার ক্ষেত্রে জার্মানিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বাড়তি ব্যয় ও ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের বাড়তি মূল্যের চাপ মোকাবিলার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হয়। সে কারণে প্যারিস জলবায়ু চুক্তির অন্যতম উদ্যোক্তা হয়েও জার্মানি তার ঘোষিত ২০২০ সালের কার্বন নিঃসরণ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে জার্মানি প্যারিস সম্মেলনের লক্ষ্য অর্জনে পিছিয়ে থাকলে ইউরোপের অন্য দেশগুলো তাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে এমন নিশ্চয়তা নেই।

সোমবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০১৯